লেখক ও গবেষক পরিচিতি
অনন্ত মৈত্রীর আত্মভুবন
লেখক পরিচিতি
অনন্ত মৈত্রী সম্পর্কে কিছু তথ্য
মোঃ সোহরাব হোসেন খান (অনন্ত মৈত্রী) একজন প্রখ্যাত সুফি কবি, লেখক ও গবেষক—যাঁর সাহিত্যচর্চা আত্মপরিচয়, আধ্যাত্মিকতা ও মানবিক চেতনার গভীর অনুসন্ধানে নিবেদিত। তাঁর লেখনীতে সুফি দর্শন, আত্মসাধনা ও ঐতিহাসিক গবেষণা এক অভিন্ন স্রোতে প্রবাহিত হয়েছে।
তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১ অক্টোবর ১৯৮৬ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার মুছাপুর গ্রামে। বর্তমানে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার কমলপুর (আমলাপাড়া) এলাকায় বসবাস করছেন। শৈশব থেকেই জ্ঞান, অধ্যয়ন ও আত্মানুসন্ধানের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায়।
তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ভৈরব থেকে ২০০১ সালে এসএসসি এবং হাজী আসমত সরকারি কলেজ, ভৈরব থেকে ২০০৩ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে ফিরোজ মিয়া সরকারি কলেজ, আশুগঞ্জ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর শিক্ষাজীবন তাঁকে গবেষণামুখী চিন্তা ও গভীর পাঠাভ্যাসে অভ্যস্ত করে তোলে।
তাঁর পিতা মোঃ নুরুল ইসলাম খান—বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং মাতা মোছাঃ সালেহা বেগম একজন গৃহিণী। তাঁর সহধর্মিণী ডাঃ তাহমিনা আক্তার তুলি (এমবিবিএস) এবং তাঁদের একমাত্র সন্তান আদিয়ান খান আরাভ।
সাহিত্য ও সাধনার পথে
অনন্ত মৈত্রী
অনন্ত মৈত্রীর সাহিত্যকর্ম মূলত সুফিবাদ, আত্মপরিচয়, মুর্শিদ-শিষ্য সম্পর্ক, আধ্যাত্মিক ইতিহাস ও মানবসত্তার গভীর প্রশ্নকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তিনি বিশ্বাস করেন—সাহিত্য কেবল শব্দের শিল্প নয়, বরং আত্মিক জাগরণের এক নীরব সাধনা। তাঁর রচনায় যুক্তি, উপলব্ধি ও কুরআনভিত্তিক ব্যাখ্যার সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র দর্শন প্রতিফলিত হয়েছে।
অনন্ত মৈত্রীর কাছে সাহিত্য কেবল প্রকাশের মাধ্যম নয়; এটি আত্মার অনুশীলন, চেতনার শুদ্ধিকরণ এবং সত্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক নিরবচ্ছিন্ন সাধনা। তাঁর লেখালেখি জন্ম নিয়েছে অন্তর্লোকের গভীর উপলব্ধি থেকে—যেখানে অনুভূতি নয়, বরং উপলব্ধিই ভাষা পায়। তাই তাঁর সাহিত্য আবেগপ্রবণ কল্পনার নয়, সচেতন আত্মানুসন্ধানের দলিল।
তিনি বিশ্বাস করেন, সত্য কখনো অনুমানের ফল হতে পারে না। সেই কারণে তাঁর রচনায় আবেগ বা কল্পনার স্থান সীমিত; বরং প্রত্যক্ষ উপলব্ধি, দীর্ঘ চিন্তন ও আত্মসমালোচনার মধ্য দিয়ে গঠিত চিন্তাধারাই মুখ্য। তাঁর প্রতিটি গ্রন্থ যেন আত্মপরিচয়ের পথে একেকটি আলোকস্তম্ভ—যা পাঠককে নিজের ভেতরের প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি দাঁড় করায়।
সুফি দর্শন তাঁর সাহিত্যচিন্তার মূল ভিত্তি। তবে তিনি সুফিবাদকে কেবল আধ্যাত্মিক অনুভূতির স্তরে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং কুরআন, ইতিহাস ও যুক্তির আলোকে তা ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, আত্মপরিচয় মানেই দায়িত্ব—নিজেকে জানার মধ্য দিয়েই মানুষ অন্য মানুষের আত্মপরিচয়ের পথকে সম্মান করতে শেখে।
মুর্শিদ-শিষ্য সম্পর্ক তাঁর সাহিত্যকর্মে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তিনি বিশ্বাস করেন, মুর্শিদ কেবল পথপ্রদর্শক নন; বরং আত্মাকে নিজের সত্যের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার এক জীবন্ত মাধ্যম। এই উপলব্ধিই তাঁর বহু গ্রন্থে দার্শনিক গভীরতা ও আত্মিক সংযম এনে দিয়েছে।
অনন্ত মৈত্রীর সাহিত্যসাধনার লক্ষ্য একটাই—মানুষকে তার অন্তর্লোকের সত্যের দিকে আহ্বান জানানো।
এটি
“গুরু ভক্ত আমি !! গুরু ভক্তিই মোর আত্মতৃপ্তি”
গুরু ভক্ত আমি !! গুরু ভক্তিই মোর আত্মতৃপ্তি
এই সাধনাই তাঁকে কেবল একজন লেখক নয়, বরং আত্মপরিচয়ের পথে একজন নীরব আহ্বানকারীতে রূপান্তর করেছে।
রোদেলা প্রকাশনী থেকে
প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ
২০১৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ১৩টি, যার মধ্যে গবেষণামূলক গ্রন্থ, মহাকাব্য, সুফি দর্শনভিত্তিক রচনা ও কাব্যগ্রন্থ অন্তর্ভুক্ত। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—
- “আত্মদর্শনে আমার সত্তা” — (৯ খণ্ডের মহাকাব্য),
- “অনন্ত মৈত্রীর দিকদর্শন” — ধারাবাহিক গ্রন্থসমূহ,
- “চিরন্তন হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রা.)” — চিশতীয়া দর্শন
“আমি বিশ্বময়” — বিশ্বচেতনার অন্বেষণ
“প্রেম তুমি” — আধ্যাত্মিক প্রেমকাব্য
“আমি সুফিবাদে বিশ্বাসী” — সুফি দর্শন
“আমার মুর্শিদ, আমার দর্শন” — মুর্শিদ-দর্শন
অনন্ত মৈত্রীর দিকদর্শন — আত্মপরিচয়ের দিকনির্দেশ
“অনন্ত মৈত্রীর আত্মপরিচয়” — সত্তার অন্বেষণ
“মুর্শিদ তুমি” — ভক্তির নিবেদন
“আমার ছবি” — আত্মপ্রতিচ্ছবি
“রিসালাতে চিশতীয়া” — চিশতীয়া দর্শন
“হাদিস সংকলনের ইতিহাস” — ইসলামি গবেষণা
আত্মপরিচয়ের পথে মানবসত্তার নিরলস অনুসন্ধান
দর্শন ও লক্ষ্য
তাঁর লেখালেখির মূল দর্শন মানবসত্তাকে তার অন্তর্লোকের সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করানো এবং আত্মপরিচয়ের পথে সচেতন আহ্বান জানানো। তিনি বিশ্বাস করেন, আত্মপরিচয় অর্জন মানেই কেবল ব্যক্তিগত মুক্তি নয়—এটি মানবসমাজে বিভেদ, সংকীর্ণতা ও ভেদাভেদের অবসানের প্রথম ধাপ। এই উপলব্ধি থেকেই তাঁর সাহিত্যকর্মে আত্মজিজ্ঞাসা, মানবিকতা ও চেতনার বিস্তার একত্রে প্রবাহিত হয়েছে।
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন—
“মানুষ যখন নিজের আত্মপরিচয় জানতে পারে, তখন বিভেদের অবসান ঘটে।”
এই বিশ্বাসকে বাস্তবতায় রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই তাঁর সাহিত্যচর্চা কেবল সৃজনশীল প্রয়াসে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি এক সচেতন, দায়িত্বশীল ও নিরলস সাধনার পথচলা।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা ও গবেষণামূলক স্বীকৃতি
প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক স্বীকৃতি
অনন্ত মৈত্রীর সাহিত্য ও গবেষণাকর্ম কেবল পাঠকসমাজেই নয়, প্রাতিষ্ঠানিক একাডেমিক পরিসরেও গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি লাভ করেছে। তাঁর চিন্তাধারা, সুফি দর্শনভিত্তিক রচনা এবং গবেষণামূলক গ্রন্থসমূহের প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনায় নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে ফেলোশিপ প্রদান করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তাঁর রচনাকে কেন্দ্র করে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে পাঠ ও গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রয়্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর গ্রন্থ ও চিন্তাধারা পাঠ্যসূচি, গবেষণা ও একাডেমিক আলোচনার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, তাঁর রচনার উপর ভিত্তি করে পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণাও পরিচালিত হচ্ছে, যা তাঁর সাহিত্যিক ও দার্শনিক কাজের গভীরতা ও একাডেমিক গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
এই প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি অনন্ত মৈত্রীর সাহিত্যসাধনাকে কেবল ব্যক্তিগত সৃজনশীলতার গণ্ডি ছাড়িয়ে সমকালীন বাংলা সাহিত্য ও গবেষণার একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ে উন্নীত করেছে।
Meet Our Team
Our Creative Minds
James Anderson
Sone Barker
Mile Barnes
Chris Davies
Stay Connected with Us
About Us
অনন্ত মৈত্রী: সাহিত্য, গবেষণা ও কবিতার জন্য একটি স্পর্শকাতর প্ল্যাটফর্ম
Working hours
Lorem Ipsum
Lorem Ipsum
Contact us
+8801911952831
alam.tariful@gmail.com
House:365, Billal Hossain Road, Dhaka Cantonment