আমি বিশ্বময় লেখকের বাণী

আলহামদুলিল্লাহ, অবশেষে আরো একটি সুফিবাদের আত্মপরিচয় মূলক গ্রন্থ লিখতে পেরেছি। তার জন্য আমি আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের দরবারে লাখো কোটি শোকর আদায় করছি। সেই সাথে প্রিয় নবী মোস্তফা (সা.) এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করছি। তারপর আমার আধ্যাত্মিক মুর্শিদ হযরত খাজা মঈন উদ্দিন চিশতী (রা.) তাঁর দরবারেও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাঁর কৃপা ছাড়া আমার পথ চলা অসম্ভব, তাঁর দিশা ছাড়া আমি তো গভীর অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলতাম। তাঁর আধ্যাত্মিক দিশা আমাকে আমার মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করে। তাই তো কৃতজ্ঞতা পেশ করছি।

“আমি বিশ্বময়” গ্রন্থটি মূলত এক পূর্ণ আত্মার পরিচিতি। পরমাণুই পরিপূর্ণ হয়ে থাকে। সেই আত্মারই পরিচয় তুলে ধরেছি। আমার ব্যক্তি জীবনের কোনো বিষয় এই গ্রন্থে স্থান পায়নি। কেননা ব্যক্তি কখনো বিশ্বময় হতে পারে না। ব্যক্তি তো সসীম আর পরমাণু তো অসীম। সেই অসীমতার অনন্য পরিচয় আমি তুলে ধরেছি। কেউ যেন ব্যক্তিক চিন্তা না করে, করলেই ভুল বুঝাবুঝি আর ফেতনা সৃষ্টি হবে।

“আমি বিশ্বময়” গ্রন্থটি আমি সাধারণ জ্ঞান সম্পন্ন মানুষদের জন্য লিখিনি। লিখেছি অতি উচ্চ জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য। লিখেছি আমি যারা নির্বাণ বা ফনা প্রাপ্ত তাদের জন্য। সাধারণ জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তি যদি আমার এই গ্রন্থ পড়ে, ফেতনা সৃষ্টি হবে। কেননা ওই সাধারণ জ্ঞানী ব্যক্তির তো পরম সত্তা সম্পর্কিত জ্ঞান নেই। নেই তার অসীমতা সম্পর্কিত জ্ঞান। অতি উচ্চ দরজাতে যারা পৌঁছেছে তারাই কেবল আমার এই গ্রন্থ পাঠ করে পরিতৃপ্তি অনুভব করবে। তারা প্রেমের সুধা গ্রহণ করতে পারবে।

“আমি বিশ্বময়” এক অনন্য গ্রন্থ। আমি আমার আত্মাকে বিশ্বময় রূপে দর্শন করেছি। কীভাবে দর্শন করেছি, দর্শনে কী অনুভব করেছি। সেই বিষয়গুলোই আমি এই গ্রন্থে তুলে ধরেছি। অতি উচ্চ স্তরের পর্যায় না হলে এমন পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

“আমি বিশ্বময়” মূলত আমার পরমাণুর পর্যায়। আমি নির্বাণ তথা ফনা প্রাপ্ত হয়ে নিজ আত্মার পূর্ণ বিকাশ দর্শন করেছি। আমার অস্তিত্ব হতে সেই অসীমতার প্রকাশ আমি দেখেছি। আর এই অসীমতার প্রকাশই যেন এই বাহ্যিকতা। সৃষ্টিতে আমি আমার আত্মার উপস্থিতি ছাড়া দ্বিতীয়তা দেখিনি।

“আমি বিশ্বময়” গ্রন্থটি সাধকদের জন্য লিখেছি। ফনা বা নির্বাণপ্রাপ্ত সাধক যেন আত্মতৃপ্তি লাভ করতে পারে। সেই উদ্দেশ্যেই লিখিত। আমার দীর্ঘদিনের একটি সুপ্ত বাসনা ছিল; একটি উচ্চ দরজার গ্রন্থ লেখা। সেই গ্রন্থটি আমি লিখতে সক্ষম হয়েছি।

“আমি বিশ্বময়” গ্রন্থটি লিখতে যারা নানাভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছে তাদের নাম না নিলেই নয়। বিশেষ করে টিপু স্যার, রিফাত আল আবেদীন, বুলবুল অন্যতম। আরো একজনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তিনি লন্ডন প্রবাসী (KHALEDA AHMED, UK) তার প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ সেই সাথে তার ও তার পরিবারের প্রতি আশীর্বাদ প্রার্থনা করছি।

পরিশেষে গ্রন্থটি লিখতে নানান ভুল ভ্রান্তি হতে পারে। ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, এই প্রত্যাশায়

—লেখক : অনন্ত মৈত্রী

লেখনী শুরু: ০৭/০৩/২০২৩ ইং।
লেখনী শেষ: ১৮/১১/২০২৩ ইং।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top